১. ইসলাম কী বলে? রেজিস্ট্রেশন কি বাধ্যতামূলক?
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করা ফরজ বা রুকন (আবশ্যিক শর্ত) নয়। তবে ইসলামে চুক্তি লিখিত রাখার ব্যাপারে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে (সূরা বাকারা: ২৮২)।
বর্তমান যুগে প্রতারণা রোধ এবং নারীদের অধিকার সুরক্ষার জন্য ইসলামিক স্কলারদের মতে, রাষ্ট্রীয় আইন মেনে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা উচিত এবং আবশ্যক।
২. রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কি বিয়ে অবৈধ?
না, বিয়ে অবৈধ বা হারাম হয়ে যায় না। ইসলাম এবং বাংলাদেশের আইন—কোনোটিই রেজিস্ট্রেশন না থাকার কারণে একটি শুদ্ধ বিয়েকে ‘অবৈধ’ বা ‘ব্যভিচার’ বলে না।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী একটি বিয়ে বৈধ হওয়ার মূল শর্তগুলো হলো:
- ইজাব ও কবুল: বর ও কনের পারস্পরিক সম্মতি এবং প্রস্তাব-গ্রহণ।
- সাক্ষী: অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ (অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী) সাক্ষীর উপস্থিতি।
- অভিভাবক: কনের অভিভাবকের (ওলী) সম্মতি (অধিকাংশ মাজহাব অনুযায়ী)।
- দেনমোহর: কনের জন্য দেনমোহর নির্ধারণ করা।
এই শর্তগুলো পূরণ হলে ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়েটি ১০০% বৈধ (হালাল) হয়ে যায়, এমনকি কোনো সরকারি খাতায় তা লেখা না থাকলেও।
৩. তাহলে রেজিস্ট্রেশন না করলে কী সমস্যা?
রেজিস্ট্রেশন না করলে বিয়েটি ধর্মীয়ভাবে বৈধ হলেও আপনি আইনি জটিলতায় পড়বেন:
- আইনি শাস্তি: মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন না করলে আইনত তা অপরাধ এবং এর জন্য জরিমানা বা কারাদণ্ড হতে পারে।
- অধিকার আদায় অসম্ভব: কাবিননামা না থাকলে ভবিষ্যতে দেনমোহর, ভরণপোষণ বা উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বামীর সম্পত্তির অধিকার দাবি করা আইনত অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
সংক্ষেপে: রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বিয়ে ধর্মীয়ভাবে বৈধ কিন্তু আইনত দণ্ডনীয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

